শেয়ার করা ওয়ালেট: যেসব মাল্টি অ্যাকাউন্ট একই অ্যাড্রেসে ক্রিপ্টো ক্যাশআউট করে, তাদের কীভাবে ধরবেন
একটা ফার্ম ডিভাইস, IP আর ইমেইল সবই নকল করতে পারে, কিন্তু টাকাটা শেষমেশ এমন কোথাও পৌঁছাতেই হবে যা তার নিজের নিয়ন্ত্রণে। ক্রিপ্টো রিওয়ার্ড সাইটে সেই জায়গা হলো হাতে গোনা কয়েকটা ওয়ালেট। এই গাইডে দেখানো হয়েছে পেমেন্ট অ্যাড্রেস দিয়ে কীভাবে অনেকগুলো ছোট ছোট অ্যাকাউন্টের পেছনের ফার্মটাকে খুঁজে বের করবেন।
সংক্ষিপ্ত উত্তর
প্রতিটা ক্যাশআউটের পেমেন্ট অ্যাড্রেস নরমালাইজ করে আপনার অন্য অ্যাকাউন্টগুলোর অ্যাড্রেসের সাথে মিলিয়ে দেখুন: কয়েকটা অ্যাকাউন্ট একই অ্যাড্রেসে বা একই FaucetPay ইমেইলে ক্যাশআউট করলে প্রায় সবসময়ই পেছনের লোকটা একজন। মেমো বা ডেস্টিনেশন ট্যাগওয়ালা এক্সচেঞ্জ অ্যাড্রেসের ক্ষেত্রে অ্যাড্রেস আর মেমো একসাথে ধরে তুলনা করুন, শেয়ার করা ক্যাশআউটগুলো রিভিউয়ের জন্য হোল্ড করুন, আর ব্যবস্থা নিন পুরো ক্লাস্টারের উপর।
- সবচেয়ে শক্তিশালী একক লক্ষণ
- দুই বা তার বেশি অ্যাকাউন্ট একই ওয়ালেটে বা একই FaucetPay ইমেইলে পেমেন্ট নিচ্ছে।
- আগে নরমালাইজ করুন
- স্পেস ছেঁটে ফেলুন, চেইন অনুমতি দিলে ছোট-বড় হাতের অক্ষরের পার্থক্য বাদ দিয়ে তুলনা করুন, আর পেমেন্ট ইমেইলগুলো নরমালাইজ করুন।
- এক্সচেঞ্জ ডিপোজিট
- একই অ্যাড্রেস কিন্তু আলাদা মেমো বা ট্যাগ মানে আলাদা আলাদা মানুষ: অ্যাড্রেস আর মেমো একসাথে তুলনা করুন।
- ন্যায্য ব্যবস্থা
- ক্যাশআউট হোল্ড করুন, পুরো ক্লাস্টারটা রিভিউ করুন, আর সত্যিই একই পরিবার হলে একটা অ্যাকাউন্টকে পেমেন্ট দিন।
ওয়ালেটই কেন ফার্মকে ধরিয়ে দেয়
Faucet, PTC সাইট আর ক্রিপ্টো রিওয়ার্ড অ্যাপ অনেক অ্যাকাউন্টকে ছোট ছোট অঙ্কে অনেকবার পেমেন্ট দেয়। ফার্ম ঠিক এটাই চায়: ডজন ডজন বা শত শত অ্যাকাউন্ট, প্রতিটা একটু একটু করে ক্লেইম করে, আর প্রতিটাকে দেখায় সাধারণ ইউজারের মতো। ডিভাইস ইমুলেট করা যায়, IP ভাড়া নেওয়া যায়, আর ইমেইল বানানো যায় হাজারে হাজারে।
পেমেন্টের ব্যাপারটা আলাদা। প্রতিটা অ্যাকাউন্টকে তার ব্যালেন্স এমন একটা অ্যাড্রেসে পাঠাতেই হয় যা ফার্মারের নিয়ন্ত্রণে, আর শত শত ওয়ালেট সামলানো রীতিমতো খাটুনির কাজ। তাই বেশিরভাগ ফার্ম হাতে গোনা কয়েকটা অ্যাড্রেসে ক্যাশআউট করে, প্রায়ই প্রতিটা পেমেন্ট মেথডে একটা করে, আর মাসের পর মাস সেগুলোই ব্যবহার করে। অ্যাকাউন্টগুলোর পেমেন্ট অ্যাড্রেস মিলিয়ে দেখলেই পুরো ফার্মটা কয়েকটা ক্লাস্টারে গুটিয়ে আসে।
কোনটাকে একই অ্যাড্রেস ধরবেন
অ্যাড্রেস নরমালাইজ করার পর তুলনা করুন, নইলে ছোটখাটো পরিবর্তনেই মিলটা চাপা পড়ে যাবে। স্পেস আর অদৃশ্য ক্যারেক্টার ছেঁটে ফেলুন, আর পেমেন্ট মেথড অনুযায়ী মানানসই উপায়ে তুলনা করুন।
| পেমেন্ট মেথড | কী তুলনা করবেন | যেদিকে খেয়াল রাখবেন |
|---|---|---|
| Bitcoin, Litecoin ও Dogecoin | যেভাবে লেখা হয়েছে সেই অ্যাড্রেস, স্পেস ছাড়া | একই ওয়ালেট নতুন নতুন অ্যাড্রেস বানাতে পারে: তবুও শেয়ার করা অ্যাড্রেসেই অলস ফার্মগুলো ধরা পড়ে |
| Ethereum, BNB Chain, EVM চেইনে USDT | ছোট হাতের অক্ষরে hex অ্যাড্রেস | চেকসামের বড় হাতের অক্ষরে শুধু চেহারা বদলায়, অ্যাড্রেস বদলায় না |
| Tron-এ USDT (TRC20) | যেভাবে লেখা হয়েছে সেই অ্যাড্রেস | ফার্মগুলো প্রায়ই প্রতিটা অ্যাকাউন্টের টাকা একটাই এক্সচেঞ্জ ডিপোজিট অ্যাড্রেসে ক্যাশআউট করে |
| মেমোসহ TON, XRP, XLM, BNB | অ্যাড্রেস, সাথে মেমো বা ডেস্টিনেশন ট্যাগ | একটা এক্সচেঞ্জ হাজার হাজার গ্রাহকের জন্য একটাই অ্যাড্রেস ব্যবহার করে; মেমো দিয়েই তাদের আলাদা করা হয় |
| FaucetPay আর অন্যান্য মাইক্রোওয়ালেট | ইমেইল, নরমালাইজ করে | Gmail-এর ডট আর প্লাস অ্যালিয়াস (john.doe+2@gmail.com আর john.doe@gmail.com আসলে একই ইনবক্স) |
| PayPal, bKash/Nagad নম্বর | ইমেইল বা নম্বর, নরমালাইজ করে | ইমেইলের ক্ষেত্রে উপরের মতোই অ্যালিয়াস |
আপনার সাইট মেমো বা ট্যাগ নিলে অ্যাড্রেসের সাথে সেটাও সেভ করুন, আর দুটো একসাথে তুলনা করুন। নাহলে একই এক্সচেঞ্জের সব গ্রাহককে একজন মানুষ বলে মনে হবে, আর ওয়ালেট মেলানোর সময় ভুল করে ধরার (false positive) সবচেয়ে কমন কারণ এটাই।
শেয়ার করা ওয়ালেটের সাথে যেসব সিগন্যাল থাকে
- শেয়ার করা পেমেন্ট অ্যাড্রেস। আপনার সাইটের দুই বা তার বেশি অ্যাকাউন্ট নরমালাইজ করা একই অ্যাড্রেসে ক্যাশআউট করছে। অ্যাকাউন্ট যত বেশি, লক্ষণ তত শক্তিশালী।
- নতুন অ্যাকাউন্ট, দ্রুত ক্যাশআউট। ফার্মের অ্যাকাউন্টগুলো প্রথম দিনের মধ্যেই মিনিমাম ছুঁয়ে ক্যাশআউট করে, তারপর চুপ হয়ে যায়।
- ক্যাশআউটের গতি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একই অ্যাড্রেসে অনেকগুলো ক্যাশআউট, এমন সব অ্যাকাউন্ট থেকে যাদের প্রত্যেকে সামান্যই ক্লেইম করে।
- একই ডিভাইস বা নেটওয়ার্ক। শেয়ার করা ওয়ালেটের সাথে সাধারণত শেয়ার করা ডিভাইস বা হাতে গোনা একই কয়েকটা IP থাকে, যা ক্লাস্টারটাকে নিশ্চিত করে।
- ঘুরেফিরে আসা প্যাটার্ন। পুরনো অ্যাকাউন্টগুলো ব্যান করার পরও একই অ্যাড্রেস সপ্তাহের পর সপ্তাহ নতুন অ্যাকাউন্টে দেখা দিতে থাকে।
শেয়ার করা ওয়ালেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিভাইস বা নেটওয়ার্কের কোনো সিগন্যালই লাগে না, কিন্তু সবগুলো মিলিয়ে দেখলে বুঝবেন ক্লাস্টারটা কত বড়, আর কোন অ্যাকাউন্টগুলো আগে দেখা উচিত।
পাঁচ মিনিটে নিজের হিস্ট্রি চেক করুন
আপনার উইথড্র টেবিলে একটা কুয়েরি চালালেই দেখতে পাবেন আজ আপনার সাইটে সমস্যাটা কত বড়। গত 90 দিনের পেইড উইথড্রগুলো নরমালাইজ করা অ্যাড্রেস ধরে গ্রুপ করুন, আর প্রতিটা অ্যাড্রেসের পেছনে কয়টা আলাদা অ্যাকাউন্ট আছে তা গুনুন।
SELECT LOWER(TRIM(payout_address)) AS address,
COUNT(DISTINCT user_id) AS accounts,
COUNT(*) AS cashouts,
SUM(amount) AS paid
FROM withdrawals
WHERE status = 'paid' AND created_at > NOW() - INTERVAL 90 DAY
GROUP BY address
HAVING accounts > 1
ORDER BY paid DESC
LIMIT 50;টেবিল আর কলামের নাম আপনার স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী বদলে নিন। প্রতিটা রো মানে একটা অ্যাড্রেস, যা কয়েকটা অ্যাকাউন্ট শেয়ার করছে; paid কলামে দেখাবে ওই অ্যাকাউন্টগুলো মোট কত টাকা তুলে নিয়েছে। বেশিরভাগ faucet আর PTC সাইটে উপরের রো-গুলোতে থাকে হাতে গোনা কয়েকটা অ্যাড্রেস, যেগুলো ডজন ডজন অ্যাকাউন্ট শেয়ার করে, আর সব মিলিয়ে মোট পেমেন্টের বড় একটা অংশ এগুলোতেই যায়।
FaucetPay, PayPal, bKash আর Nagad-এর জন্য একই কুয়েরি পেমেন্ট ইমেইল বা ওয়ালেট নম্বরের কলাম দিয়ে চালান (ইমেইলের ক্ষেত্রে আগে কোডে Gmail-এর ডট আর প্লাস অ্যালিয়াস বাদ দিয়ে নিন), তারপর শুধু শেষ 7 দিনের জন্য আরেকবার চালান, যাতে বোঝা যায় ফার্মটা আজও সক্রিয় কিনা।
আসল ইউজারদের ক্ষতি না করে ব্যবস্থা নেওয়া
- বাতিল নয়, হোল্ড করুন। ক্যাশআউট হোল্ডে রাখুন আর ব্যালেন্সটা রেখে দিন। পেমেন্ট পরে যেকোনো সময় দিতে পারবেন; কিন্তু ক্রিপ্টো একবার পাঠিয়ে দিলে আর ফেরত আনা যায় না।
- পুরো ক্লাস্টারটা দেখুন। যেসব অ্যাকাউন্ট অ্যাড্রেসটা শেয়ার করে, সবগুলো খুলুন, সাথে তাদের ডিভাইস, IP আর সাইনআপের তারিখ। ফার্ম দেখতে এমন: কাছাকাছি সময়ে খোলা অনেকগুলো অ্যাকাউন্ট, যার প্রতিটা একবার করে ক্যাশআউট করেছে।
- আসল পরিবারকে ছাড় দিন। এক বাসার দুজন মাঝে মাঝে একটা ওয়ালেট শেয়ার করে। অ্যাকাউন্টগুলোর আচরণ স্বাভাবিক হলে আর অনেক সময়ের ব্যবধানে খোলা হলে একজনকে পেমেন্ট দিন, আর অন্যজনকে নিজের অ্যাড্রেস ব্যবহার করতে বলুন।
- শুধু অ্যাকাউন্ট নয়, অ্যাড্রেসটাও ব্লক করুন। অ্যাড্রেসটা ব্লকলিস্টে যোগ করুন, যাতে ফার্মার ওই অ্যাড্রেস দিয়ে পরের যে অ্যাকাউন্টই খুলুক, প্রথম ক্যাশআউটেই সেটা হোল্ড হয়।
- কারণটা জানান। অ্যাড্রেসটা আগেই আরেকটা অ্যাকাউন্টে ব্যবহার হয়েছে, এটুকু জানিয়ে ছোট একটা মেসেজ দিলে সৎ ইউজাররা ঠিক করে নেয়, আর ফার্মাররা বুঝে যায় দরজা বন্ধ।
CashoutGuard কীভাবে এটা অটোমেট করে
প্রতিটা cashout ইভেন্টের সাথে payout_address আর payout_method পাঠান /v1/evaluate-এ। CashoutGuard অ্যাড্রেসটা নরমালাইজ করে (স্পেস বাদ, সব ছোট হাতের অক্ষরে, আর ইমেইলের ক্ষেত্রে Gmail-এর ডট ও প্লাস অ্যালিয়াস বাদ দিয়ে), আর সেভ করে কেবল এর একটা হ্যাশ, যা শুধু আপনার সাইটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। দ্বিতীয় কোনো অ্যাকাউন্ট একই অ্যাড্রেস ব্যবহার করলে ক্যাশআউটটা পায় payout_address_shared, সাথে থাকে কয়টা অ্যাকাউন্ট অ্যাড্রেসটা ব্যবহার করছে তার সংখ্যা, আর লিংক হওয়া অ্যাকাউন্টগুলো দেখা যায় ফ্রড রিং ভিউতে।
আপনার ইউজাররা এক্সচেঞ্জে উইথড্র নিলে অ্যাড্রেস আর মেমো একসাথে payout_address হিসেবে পাঠান, যাতে একই এক্সচেঞ্জের আলাদা আলাদা গ্রাহক কখনো একে অপরের সাথে মিলে না যায়। নতুন সাইট শ্যাডো মোডে শুরু হয়, আর Enforce মোডে চাইলে শুধু ক্যাশআউট হোল্ড করতে পারেন, ইউজারকে কখনো ব্যান না করেই। কোডের জন্য দেখুন ইন্টিগ্রেশন, আর বাকি চেকগুলোর জন্য ক্যাশআউট চেকলিস্ট।